মোঃ রেদওয়ান রনি,ভ্রাম্যমান প্রতিনিধিঃ
পাবনাকে যুক্ত করে আরিচা-দৌলতদিয়ায় দ্বিতীয় যমুনা-পদ্মা বহুমুখী সেতু বাস্ত বায়নের দাবিতে ১৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ মানববন্ধন হয়েছে।ঢাকাস্থ পাবনা জেলা উন্নয়ন ফোরামের উদ্যোগে বেড়া উপজেলার কাজিরহাট থেকে ঈশ্বরদী এবং সদর উপজেলার টেবুনিয়া থেকে ফরিদপুর উপজেলার ডেমরা পর্যন্ত এ মানববন্ধন হয়।গত ২৭ জানুয়ারি ২০২০ ইং তারিখ সোমবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ কর্মসূচিতে জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, আইনজীবী, সাংবাদিক, সরকারি চাকরিজীবী, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ জেলার সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন।কর্মসূচিতে দলমত নির্বিশেষে জেলার ২ লক্ষাধিক মানুষ অংশ নেন বলে আয়োজক সংগঠনের দাবি।পাবনা শহর অংশে মানববন্ধনে জেলা উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা এস কে হাবিবুল্লাহ, মহাসচিব অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসেন মিয়া, সাবেক এমপি মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন, শিক্ষাবিদ মির্জা এ কে শহিদুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক কামিল হোসেন, পাবনা সাংস্কৃতিক পরিষদের সভাপতি ও পাবনা প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার, সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শামসুন্নাহার রেখা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী তৌহিদুল ইসলাম রূপন, খন্দকার রিপন, শিক্ষক হাসিনা আখতার রোজী, সাংবাদিক আবদুর রশিদ প্রমুখ অংশ নেন।মুক্তিযোদ্ধা এস কে হাবিবুল্লাহ ও অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসেন মিয়া বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল নগরবাড়ী-আরিচাকে সংযুক্ত করা। এখন আমরা নগরবাড়ী (কাজীরহাট), আরিচা ও দৌলতদিয়া সংযোগকারী ওয়াই টাইপ সেতু নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি। পাবনাবাসীর দীর্ঘদিনের এ দাবি বাস্তবায়ন হলে রাজধানীর সঙ্গে যাতায়াতে ১০০ কিলোমিটার দূরত্ব কমে যাবে।পাবনায় নতুন নতুন শিল্প-কলকারখানা গড়ে উঠবে।উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগে নতুন দিগন্তের সূচনা হবে।যমুনা সেতুর ওপরে ক্রমাগত চাপ কমাতে, উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের সঙ্গে রাজধানীর স্বল্পসময়ে যাতায়াত নিশ্চিত করতে এবং সড়ক দুর্ঘটনা রোধে পাবনাকে সংযুক্ত করে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।তারা বলেন, ১৯৬৪ সালে নগরবাড়ী-আরিচা রুটে ফেরি চলাচল শুরু হওয়ার পর থেকেই বাণিজ্যিকভাবে এ অঞ্চল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।দেশের উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হয়ে ওঠে পাবনা। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৭ সালে বঙ্গবন্ধু সেতু হওয়ার পর নগরবাড়ী টু পাটুয়িরা ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অর্থনৈতিকভাবে ঐতিহ্য হারিয়ে ভেঙে পড়ে এ জেলা।বেড়া উপজেলার কাজীরহাট, বাঁধেরহাট, আমিনপুর, কাশীনাথ পুর, সুজানগর উপজেলার বিরাহিমপুর, দুলাই, চিনাখড়া, সাঁথিয়া উপজেলার বন গ্রাম,মাধপুর, আতাইকুলা, সদর উপজেলার গঙ্গারামপুর, পুষ্পপাড়া, ক্যাডেট কলেজ, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাস টার্মিনাল, মুজাহিদ ক্লাব, ডিসি অফিস চত্বর, পাবনা প্রেস ক্লাব, সরকারি অ্যাডওয়ার্ড কলেজ, মালিগাছা, টেবুনিয়া, ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুরিয়া, ঈশ্বরদী রেলস্টেশন, টেবুনিয়া থেকে আটঘরিয়া, চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া হয়ে ফরিদপুর উপজেলার ডেমরা পর্যন্ত ১৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ মানববন্ধন হয়।সাঁথিয়া অংশের কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ’লীগের সভাপতি আবদুল্লাহ আল মাহমুদ দেলোয়ার, পৌর মেয়র মিরাজুল ইসলাম প্রামাণিক, সাঁথিয়া ফাউন্ডেশনের সম্পাদক ডাক্তার মনসুরুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান সোহেল রানা খোকন, ইউপি চেয়ারম্যান মীর মনজুর এলাহী, মনসুর আলম পিনচু, মিরাজুল ইসলাম, আলহাজ আবু ইউনুস, অধ্যাপক আবদুদ দাইন সরকার, অধ্যাপক আশরাফুল আলম মজনু, শিক্ষক নেতা ইকবাল হেসেন, শফিকুল ইসলাম রিপন, আলতাফ হোসেন প্রমুখ।বক্তারা বলেন, এই সেতু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন। তিনি ১৯৭০ সালে পাবনায় এক নির্বাচনী সভায় আরিচা-নগরবাড়ী ঘাট সেতু নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন।ঈশ্বরদী পুরাতন বাসস্ট্যান্ড থেকে দাশুড়িয়া পর্যন্ত সড়কে মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান বিশ্বাসসহ শত শত মানুষ।
প্রাইভেট ডিটেকটিভ/০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০/ইকবাল